সৈয়দ শামসুল হক এর কবিতা সংগ্রহ

বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক জন্মগ্রহন করেন – ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ সালে (কুড়িগ্রাম জেলা শহরে) । তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম – ‘উদয়াস্ত’ (১৯৫১ সালে ‘জগত্যা’ নামক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়) । সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম – একদা এক রাজ্যে (১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়) । তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস – ‘দেওয়ালের দেশ’ (১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন) । সৈয়দ শাামসুল হক যে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যদিয়ে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন – ‘মাটির পাহাড়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে (১৯৫৯ সালে) । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কর্মরত ছিলেন – লন্ডনের বিবিসির বাংলা বিভাগে সংবাদ পাঠক হিসেবে । সৈয়দ শাামসুল হক তাঁর যে উপন্যাসে অসামাজিক কার্যকলাপ তথা বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক এবং সমকামিতার মতো জঘন্য বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন – ‘এক মহিলার ছবি’ উপন্যাসের মাধ্যমে । তাঁর দ্বিতীয় প্রকাশিত ‘এক মহিলার ছবি’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৫৬ সালে । ‘নাসিমা’ তাঁর যে উপন্যাসের নায়িকা – ‘এক মহিলার ছবি’ উপন্যাসের । সাদেক, জরিনা, রোকসনা, জিন্নাহ প্রভৃতি যে উপন্যাসের চরিত্র – সৈয়দ শাামসুল হকের ‘সীমানা ছাড়িয়ে’ উপন্যাসের চরিত্র । ‘নীল দংশন’ সৈয়দ শামসুল হকের যে শ্রেণীর রচনা – মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‍উপন্যাস (১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়) । বাবর আলী, লতিফা, বাবলী চরিত্রগুলো যে উপন্যাসের – সৈয়দ শামসুল হকের ‘খেলারাম খেলে যা’ উপন্যাসের (৯১৯১ সালে প্রকাশিত হয়) । শামসুল হকের ‘পিন-আপ-নভেল’ নামে পরিচিত – তাঁর ‘খেলারাম খেলে যা’ উপন্যাসটি । ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের যে শ্রেণির রচনা – মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস (১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়) । একদল গেরিলার অপারেশন, সাধারণ মানুষের শংকা, প্রাণের অনিশ্চয়তা, পাক সেনাদের নৃশংসতা, ধর্মের নামে হত্যা, ধর্ষণ প্রভৃতি বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে – সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসে । ‘বিলকিস‘ সৈয়দ শামসুল হকের যে উপন্যাসের একটি বিশেষ চরিত্র – মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসের চরিত্র । সৈয়দ শামসুল হকের অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে – অনপম দিন (১৯৬২), মৃগায়ায় কালক্ষেপ (১৯৮৬), স্তব্ধতার অনুবাদ (১৯৮৭), ত্রাহি (১৯৮৯), তুমি সেই তরবারী (১৯৮৯), শ্রেষ্ঠ উপন্যাস (১৯৯০), নির্বাসিতা (১৯৯০), মহাশূন্যে পরান মাস্টার, বালিকার চন্দ্রযান, আয়না বিবির পালা, রাজার সুন্দরী প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । “আমি তোমায় সন্তান দিতে পারব । উত্তম বীজ উত্তম ফসল । তোমার সন্তান খাঁটি মুসলমান হবে । খোদার ওপর ঈমান রাখবে, আন্তরিক পাকিস্তানি হবে………. উক্তিটি কোন উপন্যাসের – সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসের । সকিনা, কাশেম, বেলাল তাঁর যে উপন্যাসের চরিত্র – ‘তুমি সেই তরবারি’ উপন্যাসের । শীত বিকেল, রক্ত গোলাপ, আনন্দের মৃত্যু প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান – প্রভৃতি সৈয়দ শামসুল হকের যে শ্রেণির রচনা – ছোটগল্প । চারিদিকে মুক্তিযুদ্ধের দামামা, গ্রামের নর-নারীর মধ্যে উৎকন্ঠা, মাতব্বর তাদের মিথ্যা আশ্বাস প্রদান করে, প্রভৃতি যে রচনার অংশ – সৈয়দ শামসুল হকের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নাটকের বিষয়বস্তু । ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যা’ যে শ্রেণির রচনা – কাব্যনাট্য (১৯৭৬ সালে প্রকাশিত) । সৈয়দ শামসুল হকের ‘গণনায়ক’ নাটকটি যে নাটক অবলম্বনে রচিত – উইলিয়াম সেক্সপিয়ারের ‘জুলিয়াস সিজার’ নাটক অবলম্বনে রচিত । নরুলদীন একদিন কাল পূর্ণিমায় দিবে ডাক, “জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?” তেজোদীপ্ত উক্তিটি সৈয়দ শামসুল হকের কোন রচনার – ‘নুরুলদীনের সারাজীবন’ নামক কাব্যনাটকের । ‘হৃদ কলমের টানে’ সৈয়দ শামসুল হকের যে শ্রেণির রচনা – প্রবন্ধ (১ম খন্ড ১৯৯১, ২য় খন্ড ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়) । ম্যাকবেথ, টেম্পেস্ট, শ্রাবণ রাজা প্রভৃতি তাঁর যে শ্রেণির রচনা – অনুবাদমূরক গ্রন্থ । সৈয়দ শামসুল হকের ‘প্রণীত জীবন’ যে শ্রেণীর রচনা – আত্মজীবনীমূলক রচনা । ‘সীমান্তের সিংহাসন’, ‘হডসনের বন্দুক’ যে শ্রেণির রচনা – সৈয়দ শামসুল হকের শিশু সাহিত্যমূলক রচনা । ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’ এবং ‘পরানের গহীন ভিতর তাঁর যে শ্রেণির রচনা – কাব্যগ্রন্থ । সৈয়দ শামসুল হক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা করেছেন – ৩০টির মতো । সৈয়দ শামসুল হক রচিত চলচ্চিত্র চিত্রনাট্যের মধ্যে রয়েছে – নয়নতারা, শীত বিকেল, তোমার আমার, মাটির পাহাড়, ময়নামতি, মধুমিলন, বিনিময়, ক খ গ ঘ ঙ, মাটির মায়া, বড় ভাল লোক ছিল, অভিযান, গেরিলা প্রভৃতি । সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটির নাম – ‘গেরিলা’ (চলচ্চিত্রটির পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ ২০১১ সালে মুক্তি পায়) । ‘উত্তরবংশ’ এবং ‘ঈর্ষা’ তাঁর যে ধরনের রচনা – নাটক । ‘আনারকলি’ সৈয়দ শামসুল হকের – উপন্যাস, ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় ( পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের অমৃতসরের কাহিনি নিয়ে রচিত) । ‘নিসার আলী’ তাঁর যে উপন্যাসের নায়ক – আনারকলি’ উপন্যাসের । সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম – একদা এক রাজ্যে (১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়) । শামসুল হকের ‘নুরুলদীনের সারাজীবন’ কাব্যনাটকটি যে পটভূমি অবলম্বন করে রচিত হয়েছিল – ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত । সৈয়দ শামসুল হকের যে উপন্যাসগুলোকে একত্রে ‘পঞ্চপ্রেমের’ উপাখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয় – এক মহিলার ছবি, কয়েকটি মানুষের সোনালি যৌবন, অনুপম দিন, জনক ও কালো কফি এবং সীমানা ছাড়িয়ে । তাঁর রচিত বিখ্যাত গানগুলো মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য – ১. হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস………। ২. তুমি আসবে বলে কাছে ডাকবে বলে ……..।  ৩. অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়…….।  ৪. চাঁদের সাথে আমি দেবো না তোমার তুলনা ……প্রভৃতি । সৈয়দ শামসুল হকের যেসব সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন – বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৯), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৮২, ১৯৮৩), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), একুশে পদক (১৯৮৪), নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক প্রভৃতি । আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা এই মহাপুরুষ ইহলোক ত্যাগ করেন – ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ( কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশে কবির ইচ্ছায় সমাহিত করা হয়) ।
Share This Article
Jobs By Category
Recent Jobs
Question Bank