কুসুম কুমারী দাশ এর কবিতা সংগ্রহ

পিতা চন্দ্রনাথ দাস এবং মাতা ধনমণি | চন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করার পর তাঁর গ্রামবাসীদের বিরোধিতায় “গৈলা” গ্রামের পৈতৃক ভিটা ছেড়ে বরিশালে এসে বসবাস শুরু করতে বাধ্য হন | প্রবেশিকা পাশ চন্দ্রনাথ, বরিশাল ব্রাহ্মসমাজের একজন একনিষ্ঠ কর্মি ছিলেন |কুসুমকুমারী একটি বিদ্যানুরাগী পারিবারিক পরিমণ্ডল পেয়েছিলেন | বরিশাল ব্রাহ্মসমাজ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের হাই স্কুলে তিনি ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত পডেন | এরপর বালিকাদের অভাবের জন্য স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে কুসুমকুমারীকে তাঁর বাবা কলকাতায়, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের গৃহে রেখে বেথুন স্কুলে ভর্ত্তি করে দেন | একবছর পর ১৩ কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের ব্রাহ্মবালিকা বোর্ডিং-এ লাবণ্যপ্রভা বসুর তত্ত্বাবধানে থেকে পড়তে লাগলেন |প্রবেশিকা শ্রেণীতে পড়তে পড়তেই ১৮৯৪ সালে তাঁর বিয়ে হয় বরিশালের ব্রজমোহন ইনস্টিটিউশন-এর প্রধান শিক্ষক সত্যানন্দ দাশের সঙ্গে | তাঁরই অনুপ্রেরণায় কুসুমকুমারী সংসারধর্ম পালনের সাথে সাথে সাহিত্য চর্চায়ও মনোনিবেশ করেন | বরিশালের ব্রাহ্মসমাজের সভা-উত্সব-অনুষ্ঠানে কুসুমকুমারী যোগদান করতেন | তিনি ১৩১৯ থেকে ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই, বরিশাল ছাত্র সংঘের সপ্তাহকালব্যাপী মাঘোত্সবের মহিলা দিবসের উপাসনায় আচার্যের কাজ করেছেন | পরিনত বয়সে এমন একটি স্বাভাবিক মর্যাদার অধিকারিণী হয়েছিলেন যে, শুধু মহিলাদের উত্সবে নয়, ব্রাহ্মসমাজের সাধারণ সভাতেও কখনও কখনও আচার্যের কর্মভার তাঁর উপর অর্পিত হত | ছোটবেলা থেকেই কবিতা ও প্রবন্ধ লেখার হাত ছিল কুসুমকুমারীর | রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, শিশুদের জন্য যে চিত্রশোভিত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছিলেন, তার প্রথম ভাগে কুসুমকুমারী রচিত যুক্তাক্ষরবিহীন ছোট ছোট পদ্যাংশ সংযোজিত করেছিলেন | বিবাহোত্তর জীবনের ব্যস্ততার জন্য লিখেছেন “ব্রহ্মবাদী” পত্রিকার সম্পাদক মনোমোহন চক্রবর্তীর প্রয়োজনের তাগিদে | তাঁর অল্প কিছু কবিতা প্রকাশিত হয়েছে “প্রবাসী” ও “মুকুল”-এ | তাঁর কবিতায় এসেছে ধর্ম, নীতিবোধ, দেশাত্মবোধ | কিশোর ও তরুণদের উদ্দেশে রচিত “মুকুল” পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা “আদর্শ ছেলে”, যার প্রথম পংতি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে”, বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সর্বাধিক পরিচিত | কাব্য মুকুল (১৮৯৬) তাঁর কাব্যগ্রন্থ | “পৌরানিক আখ্যায়িকা” নামের একটি গদ্যগ্রন্থও তিনি রচনা করেন | গুরুসদয় দত্ত তাঁর পরলোকগত স্ত্রী সরোজনলিনী দেবীর স্মৃতিতে এক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন | বিষয় ছিল “নারীত্বের আদর্শ” | সেই প্রতিযোগিতায় কুসুমকুমারী স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন | তাঁর মৃত্যু হয় কলকাতার রাসবিহারী এভিনিউ এর বাড়িতে | কবির জ্যেষ্ঠ পুত্র কবি জীবনানন্দ দাশ |
Share This Article
Jobs By Category
Recent Jobs
Question Bank