এলএলবি অনার্স এর পর

যারা আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান  তাদের জন্য ব্যারিস্টারি কোর্সটি হতে পারে অন্যতম সহায়ক। ব্যারিস্টার অ্যাট ল’র সংক্ষিপ্ত রূপ হলো বার অ্যাট ল। ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ৯ মাসের বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স (বিপিটিসি) করতে হয়।

বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সের যোগ্যতা : ইংল্যান্ডের বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সে সরাসরি ভর্তি হওয়া যায় না। ভর্তি হতে প্রথমে শিক্ষার্থীকে আইইএলটিএস করার পর কোনো ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর এলএলবি (সম্মান) পাস হতে হবে। তবে কোনো ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স ডিগ্রিধারীর যদি তৃতীয় শ্রেণী থাকে, তবে তাকে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীসহ এলএলএম (মাস্টার্স) পাস করতে হবে। ইংল্যান্ডের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ যদি অন্য কোনো বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি করেন, তবে তাকে নয় মাসের আরেকটি কোর্স করতে হবে।

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীদের যোগ্যতা : ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের অধিভুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ যদি এলএলবি অনার্স পাস করে তাকে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হয়ে নতুন করে কোনো ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি অনার্স পাস করতে হবে।

দেশে বসেই ব্যারিস্টারি : আপনি ব্যারিস্টারি পড়তে চাইলে বাংলাদেশেই ভূঁইয়া অ্যাকাডেমির সহযোগিতায় বার অ্যাট ল পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে এইচএসসি/ব্যাচেলর ডিগ্রি/মাস্টার্স ডিগ্রি বা সমমান পাস শিক্ষার্থীরা ভূঁইয়া অ্যাকাডেমিতে ২/৩/৪ বছর মেয়াদি এলএলবি অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। শিক্ষার্থীরা এর অন্যান্য ইনস্টিটিউশনের সাথে সারা বিশ্বে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ও একই সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পরীক্ষা নেয়া হয় ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে। ইংল্যান্ডেই এসব উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। সার্টিফিকেট দেয়া হয় ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে। এভাবে দেশে বসেই ইংল্যান্ডের ডিগ্রি পেতে পারেন।

 

এলএলবির পর : এলএলবি করার পর ইংল্যান্ডে বার ভোকেশনাল কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধীনে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে আইনি পেশার এ ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সের জন্য ইংল্যান্ডে যেতেই হবে।

কোথায় পড়বেন : ইংল্যান্ডের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স করায়। তাদের যেকোনো একটি থেকে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স শেষ করার পর ইংল্যান্ডের চারটি ইন’স অর্থাৎ লিনকনস ইন, গ্রেইস ইন, ইনার টেম্পল ও মিডল টেম্পলের মধ্যে যেকোনো একটি আপনাকে বেছে নিতে হবে। সনদ ইন থেকে দেয়া হলেও যেকোনো একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করতে হয়। ইন’স অব কোর্ট, স্কুল অব ল, কলেজ অব ল, বিপিপি ল স্কুল, নটিংহ্যাম, নর্দামব্রিয়া, ব্রিস্টল, কার্ডিফ, ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন প্রতিষ্ঠানে বার অ্যাট ল করা যায়। এর যেকোনো একটিতে পড়তে পারেন।

খরচ : এখানে সাধ্যের মধ্যে ব্যারিস্টারি পড়ার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি যদি ঘরে বসে নিতে চান, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি ও বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি বাবদ ৬.৫০ থেকে ৯ লাখ টাকা লাগবে। ইংল্যান্ডে গিয়ে পড়তে চাইলে শুধু টিউশন ফি বাবদ ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা লাগবে। বার ভোকেশনাল কোর্সের বর্তমান টিউশন ফি ১২ থেকে ১৮ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশী টাকায় এ ফি ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা। বার অ্যাট ল কোর্সটির মেয়াদ ৯ মাস।

সুযোগ-সুবিধা : এখানে প্রায় ছয় হাজার বইসমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ওয়াইফাই সুবিধা, কম্পিউটার ল্যাব, ক্যাফেটেরিয়া, ইংরেজি ভাষার বিশেষ ক্লাস, বিকল্প ক্লাস ব্যবস্থা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাল্টিমিডিয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

অ্যাডভোকেট হতে হলে বা আইন পেশায় ঢুকতে হলে:-


✿প্রথমে আপনাকে এইচএসসি পাসের পর যে কোনো সরকারি অথবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদে ভর্তি হতে হবে। এখানে আপনাকে চার বছরমেয়াদি এলএলবি অনার্স সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। আর বাংলাদেশের প্রায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের জন্য এলএলবি অনার্স কোর্স চালু আছে। এখানে পড়তে হলে প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ পড়বে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা।

✿✿এছাড়া আপনি চার বছর মেয়াদি এলএলবি না করেও আইন পেশায় আসতে পারেন। এ জন্য আপনাকে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজ থেকে অনার্স বা ডিগ্রি পাস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধীনে যে কোনো ল’ কলেজে দু’বছর এলএলবি (পাস) কোর্স করতে হবে। এখানে আপনার খরচ পড়বে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়া যায়।এখানে খরচ ৮০হাজার থেকে ১লাখ টাকা পড়বে

✿✿✿আপনাকে এলএলবি অনার্স শেষে বার কাউন্সিল সনদ গ্রহণ করে সিএমএম জজকোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের জন্য আলাদা আলাদা বারের সনদ গ্রহণ করতে হবে। সনদ পাওয়ার জন্য প্রথমে বার কাউন্সিলের ফরমে আবেদন করতে হবে। এরপর তিন ধাপে তথা এমসিকিউ,লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

✿✿✿✿আইনজীবী হতে চাইলে এলএলবি বা এলএলবি(অনার্স) অথবা এলএলএম পাশ করেই বাংলাদেশ বার কাউন্সল থেকে সনদপ্রাপ্ত হয়ে যে কোন আইনজীবী সমিতির সদস্য হয়ে সরাসরি আইনজীবী হয়ে যেতে পারেন।

বিচারক হতে হলে:-


এলএলবি অনার্স ও এলএলবি (পাস) কোর্সের পর জেএসসি অর্থাৎ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন ও সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষা দিতে পারবেন।


ব্যারিস্টারি ডিগ্রি নিতে হলে:-


আইন পেশায় উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্য আপনি বাংলাদেশের স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন- সার্ক, কমনওয়েলথ, আইডিবি, ব্রিটিশ কাউন্সিল, আগাঁখান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে স্কলারশিপ নিয়ে লন্ডনে ব্রিটিশ কাউন্সিলে বার-এট-ল অর্থাৎ ব্যারিস্টারি করতে পারবেন। ব্যারিস্টারি করতে হলে আপনাকে লন্ডন বার কাউন্সিলের সনদ নিতে হবে। স্কলারশিপের জন্য আপনাকে জাতীয় অথবা আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ বৃত্তি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।


আয়-রোজগার:-


জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বা সহকারী জজ পদে নিয়োগ পেলে সর্বোচ্চ সম্মান, বিবিধ সুবিধা সহ মোটা অংকের মাইনে তো আছেই।আইনজীবী হলে আয়-রোজগারের বিষয়টি অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা, সামাজিক যোগাযোগ ও মামলার ধরনের ওপর নির্ভর করে। এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঈনউদ্দীন ফারুকী জানান, হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মাসিক আয় মামলার ধরন অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। আইন পেশায় সদ্য যোগদানকারী আইনজীবী আবুল কাশেম জানান, একজন নতুন আইনজীবী সাধারণত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করে থাকেন।

আইনজীবী হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে দুই প্রকার শর্ত পূরণ করতে হবে :

প্রথম শর্ত

১. তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;

২. ২১ বছর বয়স পূর্ণ করতে হবে;

৩. নিচের যেকোনো একটি যোগ্যতা অর্জন করতে হবে :

(ক) বাংলাদেশ সীমার মধ্যে অবস্থিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে; বা

(খ) বার কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের বাইরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে; অথবা

(গ) তিনি যদি একজন ব্যারিস্টার অ্যাট ল হয়ে থাকেন।

দ্বিতীয় শর্ত

(১) উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ হলে যে কেউ বার কাউন্সিলের একটি ফরম পূরণ করে জমা দিতে পারবেন। সঙ্গে আরো যা দিতে হবে তা হলো—

(ক) আবেদনকারীর জন্মের সনদের সন্তোষজনক সাক্ষ্যপ্রমাণ;

(খ) অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী যোগ্যতার সন্তোষজনক সাক্ষ্যপ্রমাণ;

(গ) আবেদনকারীর চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে ভালো অবস্থানরত দুজন ব্যক্তির প্রশংসাপত্র;

(ঘ) ফরমে উল্লিখিত তথ্য সত্য ও নির্ভুল মর্মে একটি এফিডেফিট প্রদান করতে হবে;

(ঙ) এক হাজার ২০০ টাকা প্রদানের রসিদ দিতে হবে।

(২) অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে তাঁকে একজন ১০ বছরের অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের চেম্বারে ধারাবাহিক ছয় মাস শিক্ষানবিশ কাল অতিক্রম করতে হবে।

পরীক্ষার ধাপগুলো

প্রথমে ছয় মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করবেন—এ মর্মে এমন একজন সিনিয়রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে হবে। তবে সিনিয়রের কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত ওকালতি করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাঁর সঙ্গে থাকবে একটি হলফনামা বা এফিডেভিট। আর থাকবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুকূলে নির্ধারিত ফির ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার প্রেরণের রসিদ। আইনে স্নাতক পরীক্ষা বা অন্য কোনো ডিগ্রিপ্রাপ্তির পরীক্ষা প্রদানের পরপরই অনতিবিলম্বে উল্লিখিত চুক্তিপত্র, এফিডেভিট ও ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার প্রেরণের রসিদ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সেক্রেটারি বরাবর পাঠিয়ে দিতে হবে।আপনার পাঠানো কাগজপত্র বার কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বার কাউন্সিল আপনার বরাবর একটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু করবে। সেখানে আপনাকে একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হবে। ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির পরবর্তী লিখিত পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে আপনাকে ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কিছু কাগজ সংযুক্তি সাপেক্ষে আবেদনপত্র প্রেরণের আহ্বান জানানো হবে।বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুকূলে পরীক্ষার নির্ধারিত ফি বাবদ নির্ধারিত টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বা ব্যাংকে বার কাউন্সিলের অ্যাকাউন্টে নগদ জমা দেওয়ার রসিদ। সিনিয়রের কাছ থেকে শিক্ষানবিশ সমাপন-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র। পূর্ণ বিবরণসহ পরীক্ষার্থী ও তার সিনিয়রের স্বাক্ষর, সিলমোহর ও তারিখযুক্ত কমপক্ষে পাঁচটি দেওয়ানি ও পাঁচটি ফৌজদারি মামলার তালিকা, যার শুনানিকালে পরীক্ষার্থী নিজে তাঁর সিনিয়রের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এগুলোর সঙ্গে থাকতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ, চারিত্রিক সনদ ও ছবি।

পরীক্ষা পদ্ধতি

আবেদন করা প্রার্থীদের প্রথমেই কুইজ বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপর ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এতে পাস নম্বর ৫০। তৃতীয় পর্যায়ে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিচারপতিরা এই মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করে থাকেন। মৌখিক পরীক্ষায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর অধীনে প্রার্থী যে বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তা থেকেই প্রশ্ন করা হয়।

পরীক্ষার বিষয়গুলো

ছয়টি বিষয়ের ওপর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এগুলো হলো ফৌজদারি দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি কার্যবিধি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, তামাদি ও সাক্ষ্য আইন। প্রতিটি বিষয় থেকে তিনটি প্রশ্ন থাকে এবং একটি উত্তর দিতে হয়।

নিম্ন আদালতে প্র্যাকটিস

মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনি আইনজীবী (নিম্ন আদালতের) হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন। অর্থাৎ আপনি হয়ে গেলেন অ্যাডভোকেট। এ ক্ষেত্রে আপনি পেয়ে যাবেন বার কাউন্সিলের সদস্যপদ। তবে শুধু সনদ পেলেই হবে না, আপনি যে বারে প্র্যাকটিস করতে চান, সেই বারের সদস্যপদও নিতে হবে।

হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস

নিম্ন আদালতে দুই বছর আইনজীবী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে সনদ নেওয়ার যোগ্যতা হয়। তবে হাইকোর্টে ১০ বছরের বেশি প্র্যাকটিস করছেন এমন এক সিনিয়রের সঙ্গে শিক্ষানবিশ চুক্তি করতে হয়। আর যদি বার অ্যাট ল ডিগ্রি বা এলএলএম পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকে, তখন বার কাউন্সিল থেকে সনদ পাওয়ার পর এক বছর অতিক্রান্ত হলে আপনি পরীক্ষা দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত হলো, সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের অধীনে আপনাকে এক বছর প্র্যাকটিস করতে হবে এবং এ মর্মে আপনার সিনিয়রের একটা প্রত্যয়নপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস

একজন আইনজীবীর হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের বয়স পাঁচ বছর হলে এবং হাইকোর্টের বিচারপতিরা যদি তাঁকে এই মর্মে স্বীকৃতি দেন যে তিনি আপিল বিভাগে ওকালতি করার জন্য সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তি, তবে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন সাপেক্ষে এনরোলমেন্ট কমিটি তাঁকে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে কাউকে বিশেষভাবে উপযুক্ত মনে করলে এ আনুষ্ঠানিকতা পালন ছাড়াও প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকরা তাঁকে আপিল বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতি দিতে পারেন।

আরও চাকরির সুবিধা:-


একজন আইনজীবী আইন পেশার পাশাপাশি যে কোনো কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার, যে কোনো ব্যাংকের নিজস্ব আইনজীবী অথবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার আইন উপদেষ্টা হিসেবে চাকরি করতে পারেন। আইন কমিশনেও চাকরির সুযোগ আছে। এখানে আয় ও সম্মান উভয়টি ভালো মানের। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিলরুবা সরমিন জানান, বর্তমানে ব্যাংক, বীমা ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেট ও বিউটি পার্লারসহ ছোট বড় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এতে একজন আইনজীবীর কাজের পরিধি সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাড়ছে আয়ের ক্ষেত্র

সুতরাং অন্যান্য পেশার চেয়ে আইন পেশা অনেক লাভজনক ও সম্মানজনক। আইন পেশায় গড়ুন আপনার স্বপ্নের সফল ক্যারিয়ার।

 

Share This Article
Jobs By Category
Recent Jobs
Question Bank